দুর্নীতি রোধ করলে রেলওয়ের লোকসান দূর করা যাবে

0
7470

ঝামেলামুক্ত, আরামদায়ক ও তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় রেল ভ্রমণে যাত্রীদের আগ্রহ সব দেশেই বেশি। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেলের যাত্রী পরিবহন প্রায় সোয়া এক কোটি বৃদ্ধি তারই প্রমাণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রেলের লোকসানও।

যেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ কোটি ৭৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করে রেলের লোকসান ছিল প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯ কোটির কাছাকাছি যাত্রী পরিবহন করে রেলের লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬শ’ কোটি টাকায়।

রেলে অনিয়ম-দুর্নীতির কালোবিড়াল যে এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে, উল্লিখিত তথ্য থেকেই তা স্পষ্ট।

রেলওয়েসংশ্লিষ্টরা অবশ্য বিপুল অঙ্কের এ লোকসানকে লোকসান মানতে নারাজ। তারা বলছেন, রেল সেবাখাত হওয়ায় এখানে লাভ-লোকসান হিসাব করার চেয়ে সেবাদানই আসল কথা।

এখানেই আমাদের আপত্তি। ধারণা করা যায়, এ মনোভাবের মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি লুকিয়ে আছে। একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা যদি মনে করেন লাভ-লোকসান বড় বিষয় নয়, তবে সেখানে উন্নতির প্রচেষ্টা যেমন থেমে থাকবে, তেমনি ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চাইবে।

পৃথিবীর সব দেশেই রেল সেবাখাত; কিন্তু তাদের তো লোকসান হচ্ছে না। আমরা মনে করি, দেশের সবচেয়ে বড় পরিবহন সংস্থাটিকে লাভজনক করার যথেষ্ট সুযোগ আছে এবং সরকারের শীর্ষমহল ও রেলসংশ্লিষ্টদের উচিত খাতটির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস নেয়া।

সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে রেলওয়ে এককভাবে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তির মালিক। দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব সম্পত্তির সুষম ব্যবহার রেলের আয় বৃদ্ধির একটি উপায় হতে পারে।

বিষয়টি বিভিন্ন সময় আলোচনায় এলেও কেন এ সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। রেলওয়ের সম্পত্তি দখল ও বেহাত হওয়ার পেছনে সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহলের হাত থাকাই স্বাভাবিক। নিয়োগ, রেললাইন নির্মাণ ও মেরামতসহ নানা কাজে জেঁকে বসেছে ভয়াবহ দুর্নীতি।

গত শুক্রবারও টিকিট কালেক্টর পদে রাজশাহীতে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রার্থীরা উপস্থিত হলেও কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের কয়েক মুহূর্ত আগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

অতীতে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং নিয়োগের উদ্দেশ্যে নেয়া মোটা অঙ্কের টাকাসহ রেলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ধরা পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

রেলের লোকসানের কারণের মধ্যে আরও আছে রেললাইন নির্মাণে কিলোমিটার প্রতি গড়ে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। ভারত ও পাকিস্তানে এ কাজে গড়ে যথাক্রমে ১২ ও ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয় কিলোমিটার প্রতি।

সব শ্রেণীর মানুষের পছন্দের পরিবহন রেলওয়েকে লাভবান করতে এবং মানুষের যানজটমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের অধিকার নিশ্চিত করতে রেলের আধুনিকায়নের বিকল্প নেই।

এজন্য সংস্থাটির উচিত সম্পত্তির সুষম ব্যবহার, দুর্নীতি-অনিয়ম প্রতিরোধ এবং তেলের পরিবর্তে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নেয়া।

সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ইতিবাচক হলে রেলকে লাভজনক করা কঠিন হবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

 

সুত্র:যুগান্তর

Ad

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here