ধর্মের বিভাজন আওয়ামী লীগ কখোনো বিশ্বাস করে নাঃ প্রধানমন্ত্রী

0
430

শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন উপলক্ষে গণভবনে দেশের সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনা বলেন, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কখনোই ধর্মের বিভাজনে বিশ্বাস করে না। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা যেন নিজেরাই নিজেদের অবহেলিত মনে না করেন, সে ব্যাপারে আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার অসৎ উদ্দেশ্যে দেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনই এতে বিশ্বাস করে না। বরং তাঁরা মনে করে এই দেশ সকলের, এদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মাবলম্বীদের।

শেখ হাসিনা আজ বুধবার বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন, জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে দেশের সনাতম ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলার মাটিতে যেহেতু আমরা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক হয়ে বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কাজেই এখানে সকল ধর্মের সম্মান ও অধিকার থাকবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে যখন সকলে একসঙ্গে যুদ্ধ করেছে এক ভাইয়ের সঙ্গে অপর ভাইয়ের রক্ত মাটিতে মিশে গেছে সে রক্ততো কেউ ভাগ করতে যায়নি, এটা ভাগ হতে পারে না।

এ সময় ভারতীয় শরণার্থী শিবিরে আশ্রিতদের কে হিন্দু বা কে মুসলমান সেটা দেখা হয়নি। আমরা সেটা ভুলবো কিভাবে, বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যে, সংবিধান আমাদের দিয়েছিলেন সেই সংবিধানে তিনি কিন্তু সেকথাই বলে রেখেছিলেন। আমাদের যে চার মূলনীতি সেই মূলনীতিতে কিন্তু একথাটাই ছিল।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আমার একটা অনুরোধ থাকবে আপনারা নিজেরা নিজেদেরকে বার বার করে কেন সংখ্যা লঘু সংখ্যা লঘু বলেন, আমি জানি না। তিনি প্রশ্ন করেন, আপনারা কি এই রাষ্ট্রের নাগরিক না? আপনারা কি এদেশের মানুষ না? এটা আপনার জন্মভূমি না? তিনি নিজেই এর উত্তরে বলেন, এটাতো আপনাদের জন্মভূমি। তাহলে নিজেরা নিজেরেকে ছোট করে সংখ্যালঘু করে দেখবেন কেন? ‘এখানে সকলের সমান অধিকার রয়েছে’ উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আপনারা জানেন আমার বাবার (বঙ্গবন্ধু) আদর্শ অনুসরণ করেই আমরা সকল পদক্ষেপ নিচ্ছি।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাতমানন্দা মহারাজ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, জন্মষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গদে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, মহানগর সার্বজনিন পূজা কমিটি সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল, জন্মষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবে সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ পালিত ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষকতা মানে ধর্মহীনতা নয়। ধর্ম নিরপেক্ষতার অর্থটাই হচ্ছে যার যার ধর্ম সে স্বাধীনভাবে পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শারদীয় দুর্গোৎসবের জন্য দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকারের পাশাপাশি পূজা-পার্বণে নিজস্ব ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময় কঠোর রাখারও পরামর্শ দেন ।

এম এইচ সোহল।

Ad

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here