ব্যাবসায়ীরা বিপাকে বাকীতে কীটনাশক,সেচ,সার বিক্রি করে

0
680

এবার ধানের উপযুক্ত দাম না পেয়ে লোকসানে দিশেহারা কৃষকেরা । আর ধান আবাদে হালচাষ, জমি সেচ, কীটনাশক ও সার বাকিতে বিক্রি করে টাকা তুলতে না পেরে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। টাকা আদায়ে হালখাতা করেও লাভ হচ্ছে না। টাকা পরিশোধ করতে আসছেন না কৃষকেরা। কেউ এলেও অর্ধেক পাওনা পরিশোধ করে ব্যবসায়ীর কাছে সময় নিচ্ছেন।

জয়পুর হাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার জিয়াপুর গ্রামের বিদ্যুৎ–চালিত গভীর নলকূপের মালিক ছানোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর গভীর নলকূপের অধীনে বোরো ধান আবাদে ১৬০ বিঘা জমিতে তিনি বাকিতে পানি সেচ দিয়েছিলেন। কোনো কোনো কৃষক প্রথম দিকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে পানি সেচ নেন। আর অধিকাংশ কৃষকই বাকিতে পানি সেচ নিয়ে ধান আবাদ করেছেন। কিন্তু তাঁরা এবার পানির দামে ধান বিক্রি করে লোকসানে পড়ায় বাকি টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না।

ছানোয়ার হোসেন বলেন, বাড়ি বাড়ি ঘুরেও টাকা আদায় হচ্ছে না। নিজের টাকা খরচ করে ধান আবাদ করে দিয়ে তিনিই এখন বিপদে পড়েছেন। শ্যালো মেশিনের যন্ত্রাংশ বিক্রি, পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে হালচাষ, পানি সেচসহ তাঁর ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওপর বাকি রয়েছে।

ক্ষেতলাল উপজেলার আমিড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বাড়িতে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও ডিজেল বিক্রির দোকান করেছেন অনেক দিন হলো। প্রতিবছর বোরো মৌসুমের সময় বিক্রিও ভালো হয়। তিনি বাকিতে সার, কীটনাশক ও ডিজেল বিক্রি করেছেন প্রায় চার লাখ টাকার। হালখাতা করেও টাকা উঠবে কি না, এ নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গভীর নলকূপ ২ হাজার ৩৫টি এবং অগভীর নলকূপ ৮ হাজার ৪৮৭টি। ওই সব নলকূপের অধীনে জেলার পাঁচটি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৭২ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

পাঁচবিবি উপজেলার খাসবাগুড়ী গ্রামের কৃষক মনির উদ্দীন বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। জমিতে পানি সেচ, কীটনাশক ও সার মিলিয়ে ব্যবসায়ীর কাছে তাঁর বাকি রয়েছে ১৭ হাজার টাকা। সেই টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারেননি। এক মাস ওই ব্যবসায়ীর কাছে সময় চেয়ে নিয়েছেন। পুকুরের মাছ বিক্রি করে পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।

Ad

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here